ঢাকা থেকে কলকাতা ট্রেন ও বাস: বেনাপোল সীমান্ত পারাপার, মৈত্রী এক্সপ্রেস অবস্থা ও সম্পূর্ণ BDT খরচ (২০২৬)
ভারত বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের অন্যতম প্রধান স্থলভ্রমণ গন্তব্য, আর ঢাকা–কলকাতা পথে বেনাপোল–পেট্রাপোলই প্রধান সড়ক করিডোর।
ভারত বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক ভ্রমণ গন্তব্য, আর ঢাকা–কলকাতা স্থলপথে যশোরের বেনাপোল ও পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল সীমান্তই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত রুট। জুলাই ২০২৪ থেকে আন্তঃসীমান্ত যাত্রীবাহী ট্রেন (মৈত্রী এক্সপ্রেস, বন্ধন এক্সপ্রেস ও মিতালি এক্সপ্রেস) স্থগিত রয়েছে এবং ১৫ অক্টোবর ২০২৬-এর পর্যালোচনায় পুনরায় চালুর কোনো নিশ্চিত সময়সূচি প্রকাশিত হয়নি [১, ৩]। ট্রেন বন্ধ থাকায় Haridaspur / Benapole চেকপোস্ট এনডোর্সড বৈধ ভারতীয় স্টিকার ভিসাধারী যাত্রীরা সরাসরি বা ভেঙে বাসে বেনাপোল–পেট্রাপোল সীমান্ত পার হচ্ছেন। ৩ দিন ও ২ রাতের কলকাতা স্থলভ্রমণের আনুমানিক পরিকল্পনা বাজেট জনপ্রতি BDT 8,000–18,000 (এটি পরিকল্পনার রেফারেন্স, লাইভ কোটেশন নয়)।
এই গাইডটি ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সরকারি রেলওয়ে, ভিসা, রাজস্ব ও স্থলবন্দর পোর্টালের তথ্যের সাথে মিলিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে। যেহেতু আন্তঃসীমান্ত ট্রেন চলাচল, IVAC অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট, সীমান্ত ভ্রমণ কর এবং বাসের ভাড়া যেকোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে, তাই নন-রিফান্ডেবল বুকিংয়ের আগে উদ্ধৃত অফিশিয়াল পোর্টালে সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করুন [১–১০]।
১. ২০২৬ সালে মৈত্রী এক্সপ্রেস কি চলছে? না — জুলাই ২০২৪ থেকে আন্তঃসীমান্ত যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল স্থগিত রয়েছে। মৈত্রী এক্সপ্রেস (ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট–কলকাতা চিৎপুর), বন্ধন এক্সপ্রেস (খুলনা–কলকাতা) এবং মিতালি এক্সপ্রেস (ঢাকা–নিউ জলপাইগুড়ি)—তিনটি ট্রেনই ২০২৪ সালের মাঝামাঝি বন্ধ হয়। ১৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ রেলওয়ে বা ভারতীয় রেলওয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক পুনরায় চালুর তারিখ ঘোষণা করেনি। ভ্রমণ পরিকল্পনার আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিশিয়াল পোর্টাল (railway.gov.bd), ই-টিকিটিং সেবা (eticket.railway.gov.bd) এবং ভারতীয় রেলওয়ে পোর্টাল (indianrailways.gov.in) থেকে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন [১–৩]।
পদ্মা সেতু রুট প্রস্তাব ও সম্ভাব্য পরিবর্তন: যমুনা সেতু–দর্শনা করিডোরের বদলে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা–কলকাতা ট্রেন চালানোর বিষয়ে দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে: - সম্ভাব্য যাত্রার সময়: বাস্তবায়িত হলে যাত্রার সময় আগের প্রায় ৮–১০ ঘণ্টা থেকে কমে আনুমানিক ৬ ঘণ্টায় নামতে পারে। - ভাড়া ও সময়সূচির অবস্থা: পদ্মা সেতু রুটের নতুন সময়সূচি বা ভাড়া হ্রাসের বিষয়টি এখনো প্রস্তাব পর্যায়ে রয়েছে—দ্বিপাক্ষিক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এটি নিশ্চিত সময়সূচি নয় [১, ৩]।
২. স্থগিত হওয়ার আগের রেল ভাড়ার ধারণা (পরিকল্পনার রেফারেন্স) আন্তঃসীমান্ত ট্রেন বন্ধ থাকলেও স্থলপথের খরচের ধারণার জন্য অভ্যন্তরীণ আন্তঃনগর ট্রেন এবং আন্তর্জাতিক মৈত্রী এক্সপ্রেসের ভাড়ার পার্থক্য বোঝা জরুরি [১–৩]: - মৈত্রী এক্সপ্রেস আন্তর্জাতিক ভাড়া (স্থগিত): স্থগিত হওয়ার আগে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট–কলকাতা আন্তর্জাতিক রুটের ভাড়া মার্কিন ডলারে নির্ধারিত ছিল (ভ্রমণ কর, ভ্যাট ও বিনিময় হার সমন্বয়ের আগে এসি চেয়ারে আনুমানিক USD 20 এবং এসি সিট/কেবিনে আনুমানিক USD 30), যা নির্ধারিত রেলওয়ে কাউন্টার থেকে ইস্যু হতো [১, ৩]। - বাংলাদেশ রেলওয়ে অভ্যন্তরীণ আন্তঃনগর বেঞ্চমার্ক (ঢাকা–বেনাপোল রুট): দেশের ভেতরে ঢাকা–বেনাপোল রুটের আন্তঃনগর ট্রেনে (eticket.railway.gov.bd-এ শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা এসি চেয়ার, এসি সিট ও এসি বার্থ) শ্রেণিভেদে পুরাতন বেঞ্চমার্ক ভাড়া ছিল আনুমানিক ৩১৯ টাকা থেকে ১,১৮১ টাকা (ভ্রমণ কর বা নতুন ট্যারিফ পরিবর্তনের আগে) [১–২]। - যাচাইয়ের নিয়ম: পুরাতন বা অভ্যন্তরীণ রুটের ভাড়াকে বর্তমান আন্তর্জাতিক টিকিটের নিশ্চিত দর হিসেবে ধরবেন না; ট্রেন চালু হলে railway.gov.bd ও indianrailways.gov.in-এ নতুন ভাড়ার তালিকা দেখে নিন [১–৩]।
৩. বেনাপোল–পেট্রাপোল স্থলসীমান্ত পারাপারের ধাপে ধাপে নিয়মাবলী আন্তঃসীমান্ত ট্রেন চালু না হওয়া পর্যন্ত যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর এবং পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার পেট্রাপোল ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট (ICP) দিয়েই ঢাকা–কলকাতা স্থলপথের যাত্রীরা যাতায়াত করেন [৯–১০]। যাত্রার আগে নিশ্চিত করুন আপনার ভারতীয় ভিসায় Haridaspur / Benapole স্থলবন্দর দিয়ে প্রবেশ ও প্রস্থানের অনুমতি উল্লেখ আছে [৪–৬]।
ধাপ ১: ঢাকা থেকে সড়কপথে বেনাপোল স্থলবন্দরে যান পদ্মা সেতু এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে ঢাকার গাবতলী, কল্যাণপুর, আরামবাগ ও মালিবাগ টার্মিনাল থেকে বেনাপোল পর্যন্ত বাসে যেতে যানজটভেদে আনুমানিক ৪.৫ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় লাগে: - সমন্বিত ঢাকা–কলকাতা বাস (গ্রিনলাইন, শ্যামলি, দেশ ট্রাভেলস, সৌহার্দ্য): অনেক অপারেটর ঢাকা–কলকাতা সমন্বিত টিকিট বিক্রি করে, যেখানে যাত্রীরা পায়ে হেঁটে বেনাপোল–পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন শেষ করার পর অপর প্রান্তে একই কোম্পানির সংযোগকারী বাসে ওঠেন। - ভেঙে ভ্রমণ (Split-leg): অনেক যাত্রী ঢাকা থেকে বেনাপোল পর্যন্ত দেশীয় বাসে (নন-এসি বা এসি কোচভেদে আনুমানিক ৫০০–১,২০০ টাকা) গিয়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সীমান্ত পার হন এবং পেট্রাপোল বা বনগাঁ থেকে কলকাতার বাস বা লোকাল ট্রেন ধরেন। - সময়ের টিপস: ঢাকা থেকে রাতের বাসে রওনা দিলে ভোরে বেনাপোল পৌঁছানো যায় এবং সকালে স্থলবন্দর খোলার সাথে সাথেই কম ভিড়ে ইমিগ্রেশন শেষ করা সহজ হয়।
ধাপ ২: বেনাপোল–পেট্রাপোল সীমান্তে ইমিগ্রেশন ও শুল্ক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন ঢাকা থেকে কলকাতা যাওয়ার সময় আপনাকে প্রথমে বাংলাদেশের বেনাপোল প্রান্তে বহির্গমন (Exit) এবং পরে ভারতের পেট্রাপোল প্রান্তে প্রবেশ (Entry) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে [৮–১০]: - ১. বাংলাদেশ প্রস্থান — বেনাপোল স্থলবন্দর (যশোর): বেনাপোল প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে প্রবেশ করে নির্ধারিত ব্যাংক বা বন্দর কাউন্টারে সরকারি স্থলসীমান্ত ভ্রমণ কর পরিশোধ করুন (অনেক সময় বাস অপারেটর সামান্য সার্ভিস চার্জ নিয়ে এটি জমা দেয়; অফিশিয়াল রসিদ সাথে রাখুন)। এরপর বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন পুলিশের কাউন্টারে পাসপোর্ট, বৈধ ভারতীয় ভিসা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পেশাগত NOC বা GO দেখিয়ে প্রস্থান স্ট্যাম্প নিন [৮–৯]। - ২. নো-ম্যানস ল্যান্ড অতিক্রম: বাংলাদেশ ও ভারতের ইমিগ্রেশন ভবনের মাঝের আনুমানিক ২০০–৫০০ মিটার পথ লাগেজসহ হেঁটে পার হন (অনুমোদিত কুলি নিলে আগে থেকেই নির্ধারিত চার্জ কথা বলে নিন) [৯–১০]। - ৩. ভারত প্রবেশ — পেট্রাপোল ICP (পশ্চিমবঙ্গ): ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF) চেকপয়েন্ট পেরিয়ে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কাউন্টারে পাসপোর্ট, ভিসা ও ডিসএমবার্কেশন স্লিপ জমা দিন এবং কাস্টমস চেক শেষ করে পেট্রাপোল টার্মিনাল থেকে বের হন [১০]। - সীমান্তের সময়সূচি: বেনাপোল–পেট্রাপোল যাত্রী ইমিগ্রেশন সাধারণত দিনের বেলা (স্থানীয় সময় আনুমানিক সকাল ৬:০০টা থেকে সন্ধ্যা ৬:০০টা পর্যন্ত; ছুটির দিন বা নিরাপত্তা নির্দেশনায় পরিবর্তন হতে পারে) খোলা থাকে। সকাল ৭:০০–১০:০০টার মধ্যে পার হলে লাইনে অপেক্ষা কম হয় [৯–১০]।
ধাপ ৩: পেট্রাপোল থেকে কলকাতা (অথবা ফিরতি পথে ঢাকা) যাত্রা - পেট্রাপোল → কলকাতা বাসে: পেট্রাপোল টার্মিনালের বাইরে সংযোগকারী এসি বাসগুলো কলকাতার এসপ্লানেড / মার্কুইস স্ট্রিটের উদ্দেশ্যে অপেক্ষা করে (যাত্রাকাল আনুমানিক ৩–৪ ঘণ্টা; লোকাল বাস লেগ আনুমানিক INR 300–400, অথবা সমন্বিত টিকিটে মোট আনুমানিক INR 1,400–1,800 বা সমমূল্যের টাকা)। - পেট্রাপোল → বনগাঁ → কলকাতা শিয়ালদহ লোকাল ট্রেনে: সাশ্রয়ী ভ্রমণকারীরা পেট্রাপোল সীমান্ত থেকে অটোতে বনগাঁ জংশন স্টেশনে গিয়ে পূর্ব রেলের লোকাল ট্রেনে কলকাতার শিয়ালদহ স্টেশনে যেতে পারেন [৩]।
৪. বাংলাদেশি পাসপোর্টে ভারতীয় ভিসা (IVAC প্রক্রিয়া ও সতর্কতা) গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা — ১৫ অক্টোবর ২০২৬-এর এই পর্যালোচনায় লাইভ IVAC অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেম সরাসরি পরিমাপ করা হয়নি: ২০২৪ সালের পর থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসার স্লট ও ক্যাটাগরির প্রাপ্যতা বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তিত হয়েছে। ২০২৬ সালে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনার IVAC কেন্দ্রগুলোতে ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর তথ্য বিভিন্ন ট্রাভেল সোর্সে উল্লেখ থাকলেও, বর্তমান অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট ও ক্যাটাগরির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র IVAC বাংলাদেশ (ivacbd.com) এবং ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের (hcidhaka.gov.in) অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তিই চূড়ান্ত [৪–৭]। - বাংলাদেশি পাসপোর্টে ভারতীয় e-Visa নেই: সাধারণ বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা ভারতীয় e-Visa-র আওতাভুক্ত নন; অবশ্যই indianvisa-bangladesh.nic.in ও IVAC-এর মাধ্যমে পাসপোর্টে স্টিকার ভিসার আবেদন করতে হবে [৪–৬]। - ভিসা ফি বনাম IVAC প্রসেসিং চার্জ: দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারত সরকারের ভিসা ফি বিনামূল্যে, তবে IVAC বাংলাদেশ নির্ধারিত ভিসা প্রসেসিং ফি আদায় করে (কেন্দ্র ও সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিভেদে পূর্বে প্রকাশিত হার আনুমানিক ৮০০–১,৫০০ টাকা ও ডিজিটাল পেমেন্ট চার্জ; টাকা জমা দেওয়ার আগে ivacbd.com-এ বর্তমান হার দেখে নিন) [৪–৫]। - চেকপোস্ট নির্বাচন: indianvisa-bangladesh.nic.in-এ অনলাইন ফর্ম পূরণের সময় সঠিক এন্ট্রি/এক্সিট চেকপোস্ট (যেমন বেনাপোল–পেট্রাপোল স্থলপথের জন্য Haridaspur, এবং একপথে বিমানে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে By Air) নির্বাচন করুন [৫–৬]।
IVAC স্টিকার ভিসা আবেদনের ধাপসমূহ: - ধাপ ১ — অনলাইন ফর্ম পূরণ: indianvisa-bangladesh.nic.in পোর্টালে ২×২ ইঞ্চি সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের ছবিসহ অনলাইন আবেদনপত্র পূরণ করে প্রিন্ট নিন [৬]। - ধাপ ২ — IVAC ফি ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট: ivacbd.com-এ ভিসা প্রসেসিং ফি পরিশোধ করে নিকটস্থ IVAC কেন্দ্রের অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুক করুন (অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া ওয়াক-ইন আবেদন সাধারণত গ্রহণ করা হয় না) [৪]। - ধাপ ৩ — প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: ন্যূনতম ৬ মাসের মেয়াদ ও ২টি ফাঁকা পৃষ্ঠাসহ মূল পাসপোর্ট (সব পুরাতন পাসপোর্টসহ), NID কপি, সাম্প্রতিক ইউটিলিটি বিল (ঠিকানার প্রমাণ), ৩–৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা পাসপোর্ট ডলার এনডোর্সমেন্ট (অফিশিয়াল চেকলিস্ট অনুযায়ী ন্যূনতম USD 150; আমাদের ডুয়াল-কারেন্সি কার্ড গাইড দেখুন), পেশাগত প্রমাণপত্র (NOC, GO, ট্রেড লাইসেন্স বা স্টুডেন্ট আইডি) এবং ভ্রমণ পরিকল্পনার কপি প্রস্তুত রাখুন [৫]। - ধাপ ৪ — বায়োমেট্রিক ও পাসপোর্ট সংগ্রহ: নির্ধারিত তারিখে IVAC কেন্দ্রে ফাইল ও বায়োমেট্রিক জমা দিন এবং ivacbd.com-এ পাসপোর্ট ডেলিভারির স্ট্যাটাস ট্র্যাক করুন [৪]।
৫. ৩ দিনের কলকাতা স্থলভ্রমণের আনুমানিক BDT বাজেট (পরিকল্পনার রেফারেন্স) নিচের তালিকায় বেনাপোল–পেট্রাপোল হয়ে ৩ দিন ও ২ রাতের কলকাতা স্থলভ্রমণের আগের প্রকাশিত পরিকল্পনা বাজেট জনপ্রতি BDT 8,000–18,000 সংরক্ষিত হয়েছে। ১৫ অক্টোবর ২০২৬-এ লাইভ বাস অপারেটর বা হোটেল চেকআউট থেকে এটি নতুন করে দর যাচাই করা হয়নি—বাসের শ্রেণি, NBR ভ্রমণ কর, রুপি/টাকা বিনিময় হার এবং হোটেলের তারিখের ওপর প্রকৃত খরচ নির্ভর করবে: - রাউন্ডট্রিপ সড়ক পরিবহন (ঢাকা ↔ বেনাপোল/পেট্রাপোল ↔ কলকাতা বাস): আনুমানিক BDT 3,500–5,500 (বাজেট ভেঙে ভ্রমণ বা সাধারণ বাস) থেকে BDT 5,500–7,500 (প্রিমিয়াম এসি বিজনেস/স্লিপার কোচ)। - IVAC ভিসা প্রসেসিং ফি ও বেনাপোল স্থলসীমান্ত ভ্রমণ কর: আনুমানিক BDT 1,800–2,500 একত্রে (ivacbd.com-এর বর্তমান প্রসেসিং ফি এবং NBR অর্থ আইনের সর্বশেষ স্থলসীমান্ত ভ্রমণ করের হার প্রযোজ্য) [৪, ৮]। - কলকাতায় থাকা (২ রাত, সাডার স্ট্রিট / এসপ্লানেড / নিউ মার্কেট এলাকা): আনুমানিক BDT 1,500–3,000 (বাজেট গেস্টহাউস বা শেয়ার্ড রুম) থেকে BDT 4,000–6,000 (কমফোর্টেবল মিড-রেঞ্জ এসি হোটেল, জনপ্রতি শেয়ারিং)। - খাবার, কলকাতা মেট্রো/ট্যাক্সি যাতায়াত ও সাধারণ দর্শনীয় স্থান (৩ দিন): আনুমানিক BDT 1,200–2,000 (বাজেট) থেকে BDT 3,500–4,500 (কমফোর্টেবল)। - ৩ দিনের আনুমানিক মোট স্থলভ্রমণ বাজেট (জনপ্রতি): BDT 8,000–12,000 (বাজেট টিয়ার) থেকে BDT 15,000–18,000 (কমফোর্টেবল টিয়ার)। শপিং, মেডিকেল চেকআপ, কলকাতার বাইরে দূরপাল্লার ট্রেন ভ্রমণ এবং জরুরি ফান্ড এর বাইরে।
৬. বিমানে ঢাকা–কলকাতা: কখন ফ্লাইট বেছে নেবেন আন্তঃসীমান্ত ট্রেন বন্ধ থাকলে কিংবা দীর্ঘ সড়কযাত্রা ও সীমান্তে হাঁটার ঝামেলা এড়াতে চাইলে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (DAC) থেকে কলকাতা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (CCU) সরাসরি ফ্লাইটে সময় লাগে মাত্র ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ও ইন্ডিগোর মতো ক্যারিয়ারে ঐতিহাসিক বেঞ্চমার্ক অনুযায়ী একমুখী ইকোনমি ভাড়া প্রায়ই BDT 6,500–12,000 রেঞ্জ থেকে শুরু হয় (পিক সিজন ও ব্যাগেজ চার্জ ছাড়া)। প্রতিদিনের লাইভ ভাড়া ও ব্যাগেজ নিয়ম তুলনা করতে আমাদের ফ্লাইট সার্চ হাব (/flights) ব্যবহার করুন এবং ভিসায় By Air এন্ট্রি অনুমতি আছে কিনা নিশ্চিত করুন [৫–৬]।
৭. সচরাচর জিজ্ঞাসা
২০২৬ সালে ঢাকা–কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস কি চালু আছে?
না। মৈত্রী এক্সপ্রেস, বন্ধন এক্সপ্রেস ও মিতালি এক্সপ্রেস জুলাই ২০২৪ থেকে স্থগিত রয়েছে। ১৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত চালুর তারিখ ঘোষণা করা হয়নি; অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তির জন্য railway.gov.bd, eticket.railway.gov.bd ও indianrailways.gov.in দেখুন [১–৩]।
বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা কি ভারতীয় e-Visa নিতে পারেন?
না। সাধারণ বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য ভারতীয় e-Visa প্রযোজ্য নয়; indianvisa-bangladesh.nic.in-এ অনলাইন ফর্ম পূরণ করে IVAC বাংলাদেশ (ivacbd.com)-এর মাধ্যমে স্টিকার ভিসার আবেদন করতে হয় [৪–৬]।
বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসার খরচ কত?
দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশিদের জন্য ভারত সরকারের ভিসা ফি বিনামূল্যে, তবে IVAC বাংলাদেশে নির্ধারিত ভিসা প্রসেসিং ফি (পূর্বে প্রকাশিত হার আনুমানিক ৮০০–১,৫০০ টাকা ও পেমেন্ট চার্জ) দিতে হয়। আবেদনের আগে ivacbd.com-এ বর্তমান ফি ও স্লট যাচাই করুন [৪–৫]।
ঢাকা থেকে বেনাপোল–পেট্রাপোল সীমান্ত পারাপারের সঠিক ক্রম কোনটি?
ঢাকা থেকে কলকাতা যাওয়ার সময় প্রথমে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে বাংলাদেশের ভ্রমণ কর পরিশোধ ও বহির্গমন ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে হয়, এরপর ২০০–৫০০ মিটার নো-ম্যানস ল্যান্ড হেঁটে পার হয়ে ভারতের পেট্রাপোল ICP-তে BSF, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস প্রক্রিয়া শেষ করতে হয় [৮–১০]।
স্থলপথে ৩ দিনের ঢাকা–কলকাতা ভ্রমণে আনুমানিক কত খরচ হয়?
বেনাপোল–পেট্রাপোল হয়ে বাসে ৩ দিন ও ২ রাতের কলকাতা ভ্রমণে রাউন্ডট্রিপ বাস, IVAC প্রসেসিং ফি, সীমান্ত কর, ২ রাত হোটেল ও খাবারসহ আনুমানিক পরিকল্পনা বাজেট জনপ্রতি BDT 8,000–12,000 (বাজেট টিয়ার) থেকে BDT 15,000–18,000 (কমফোর্টেবল এসি টিয়ার); এটি পরিকল্পনার রেফারেন্স, লাইভ কোটেশন নয়।
ঢাকা–কলকাতা স্থলপথে ভ্রমণের জন্য ভারতীয় ভিসায় কোন চেকপোস্ট থাকতে হবে?
বেনাপোল–পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে যাতায়াতের জন্য ভারতীয় ভিসায় সাধারণত Haridaspur / Benapole চেকপোস্ট এনডোর্সমেন্ট থাকতে হয়। যাত্রার আগে আপনার ভিসা স্টিকারে মুদ্রিত এন্ট্রি ও এক্সিট পয়েন্ট যাচাই করে নিন [৪–৬, ৯–১০]।
এই গাইডের অফিশিয়াল তথ্যসূত্র
তালিকায় দাবির সঙ্গে যুক্ত সরকারি/operator সূত্রের পাশাপাশি application, booking ও একটি সাধারণ regional portal-ও আছে; প্রতিটি link সব দাবির প্রমাণ নয়। আবেদন বা বুকিংয়ের আগে live নির্দেশনা মিলিয়ে নিন।
- [১] বাংলাদেশ রেলওয়ে — অফিশিয়াল পোর্টাল ও যাত্রীসেবা বিজ্ঞপ্তি
- [২] বাংলাদেশ রেলওয়ে — অফিশিয়াল ই-টিকিটিং পোর্টাল
- [৩] ভারতীয় রেলওয়ে — অফিশিয়াল যাত্রী ও আন্তঃসীমান্ত রেল পোর্টাল
- [৪] ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (IVAC) বাংলাদেশ — বিজ্ঞপ্তি, ফি ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট পোর্টাল
- [৫] IVAC বাংলাদেশ — ভিসা ক্যাটাগরি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা
- [৬] ভারত সরকার — বাংলাদেশের জন্য অনলাইন ভিসা আবেদন পোর্টাল
- [৭] ভারতীয় হাইকমিশন, ঢাকা — কনস্যুলার ও ভিসা বিজ্ঞপ্তি
- [৮] জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) বাংলাদেশ — স্থলসীমান্ত ভ্রমণ কর
- [৯] বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ (BLPA) — বেনাপোল স্থলবন্দর তথ্য
- [১০] ল্যান্ড পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (LPAI) — পেট্রাপোল ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট