ফ্লাইট ডিলে, ক্যান্সেল বা লাগেজ হারালে বাংলাদেশি যাত্রীরা কীভাবে সর্বোচ্চ €600 (BDT 78,000) ক্ষতিপূরণ পাবেন? (2026)
প্রতি বছর হাজার হাজার বাংলাদেশি যাত্রী আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ৪ থেকে ১২ ঘণ্টা বিলম্ব (Delay), হঠাৎ ফ্লাইট বাতিল।
অধিকাংশ বাংলাদেশি ভ্রমণকারী মনে করেন ফ্লাইট ৫ ঘণ্টা লেট হলে বা চেক-ইন করা স্যুটকেস না আসলে এয়ারলাইন্সের কাছে অনুরোধ করা ছাড়া কিছুই করার নেই। বাস্তবে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল আইন আপনার জাতীয়তা বা পাসপোর্ট দেখে না—আপনার রুট বা এয়ারলাইন্স যদি নির্দিষ্ট আইনের আওতায় পড়ে, তবে আপনি আইনত নগদ অর্থ ক্ষতিপূরণ পাবেন!
১. যে ৪টি আন্তর্জাতিক আইনে বাংলাদেশি যাত্রীরা নগদ ক্ষতিপূরণ পান - ১. ইউরোপীয় আইন EC 261/2004 এবং UK 261 (জনপ্রতি সর্বোচ্চ €600 / £520 ≈ BDT 78,000): • যুক্তরাজ্য (লন্ডন হিথ্রো, ম্যানচেস্টার) বা ইউরোপের যেকোনো এয়ারপোর্ট থেকে ছেড়ে আসা যেকোনো এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট (এমনকি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, এমিরেটস, কাতার, সৌদিয়া বা টার্কিশ এয়ারলাইন্স!) অথবা ইউরোপীয় এয়ারলাইন্সে ইউরোপে যাওয়ার ফ্লাইটে যদি চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছাতে ৩ ঘণ্টার বেশি বিলম্ব (Delay) হয় বা ফ্লাইট বাতিল হয়, তবে যাত্রীপ্রতি €250 থেকে €600 (প্রায় ৭৮,০০০ টাকা) ক্ষতিপূরণ প্রাপ্য! - ২. সৌদি আরবের GACA যাত্রী অধিকার আইন (ওমরাহ ও হজযাত্রীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ): • সৌদি সিভিল এভিয়েশন (GACA - gaca.gov.sa) আইন অনুযায়ী সৌদি আরবের যেকোনো বিমানবন্দর (জেদ্দা JED, মদিনা MED, রিয়াদ RUH, দাম্মাম DMM) থেকে ছেড়ে আসা ফ্লাইট অথবা সৌদি ক্যারিয়ার (Saudia, Flynas)-এর ঢাকা ফ্লাইটে দীর্ঘ বিলম্ব, ওভারবুকিং বা লাগেজ হারালে যাত্রীদের জন্য হোটেল, খাবার ও নির্ধারিত আর্থিক ক্ষতিপূরণ বাধ্যতামূলক। - ৩. তুরস্কের SHY-PASS আইন: • ইস্তাম্বুল এয়ারপোর্ট (IST) হয়ে Turkish Airlines-এ ভ্রমণকারী বাংলাদেশি যাত্রীদের ফ্লাইট বাতিল বা দীর্ঘ বিলম্বে সুরক্ষা দেয়। - ৪. মন্ট্রিল কনভেনশন (হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত লাগেজের জন্য সর্বোচ্চ ~€1,600 / BDT 2,00,000+): • ঢাকা থেকে জেদ্দা, ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর বা দুবাই—সব আন্তর্জাতিক রুটে চেক-ইন করা লাগেজ হারালে বা ভাঙলে এয়ারলাইন্স ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য।
২. এয়ারপোর্টে ফ্লাইট লেট হলে বা লাগেজ না পেলে তাৎক্ষণিক করণীয় ৩টি কাজ ধাপ ১: বোর্ডিং পাস ও PNR টিকিট সংরক্ষণ করুন: - আপনার আসল Boarding Pass, লাগেজ ট্যাগ স্টিকার এবং এয়ারপোর্টের ডিসপ্লে বোর্ডে ফ্লাইট ডিলের ছবি তুলে রাখুন। ধাপ ২: লাগেজ না আসলে বেল্ট ছাড়ার আগেই "PIR রিপোর্ট" নিন: - জেদ্দা, মদিনা বা ঢাকা এয়ারপোর্টের (DAC) বেল্টে আপনার স্যুটকেস না আসলে কাস্টমস হল থেকে বের হওয়ার আগেই Lost & Found ডেস্কে গিয়ে ১০-অক্ষরের রেফারেন্স কোডসহ অফিশিয়াল Property Irregularity Report (PIR) ফর্ম পূরণ করে কপি নিন। PIR নম্বর ছাড়া পরে ক্লেইম করা যায় না! ধাপ ৩: ২ মিনিটে AirHelp-এ এলিজিবিলিটি চেক করুন (গত ৩ বছরের ফ্লাইটের জন্যও প্রযোজ্য!): - একা ইমেইল করলে এয়ারলাইন্সগুলো প্রায়ই উত্তর দেয় না। তাই AirHelp-এ আপনার ফ্লাইট নম্বর ও তারিখ দিয়ে ফ্রিতে যাচাই করুন (এবং AirHelp+ Smart ও Pro প্রোটেকশনে ১১% ছাড় পেতে প্রোমো কোড `AHTPO11` ব্যবহার করুন)। ক্ষতিপূরণ আদায় হলেই কেবল তারা সার্ভিস ফি নেয় ("No-Win, No-Fee")!